Type Here to Get Search Results !

এটাই কি আমাদের শেষ গন্তব্য নাকি শুরু মাত্র?

আমরা আমাদের জীবনকে কোন দিকে নিয়ে যাচ্ছি আর এটি কি আমাদের শেষ গন্তব্য নাকি শুরু মাত্র?




সাধারণত আমরা বর্তমানের স্রোতে গা ভাসিয়ে দেয়, পারিপার্শ্বিকতার ঘূর্ণিতে মগ্ন থাকি। ভবিষ্যতের ভাবনা জাগলেও, তা জাগতিক জীবনের সীমানা পেরোতে চায় না এই জগতের সুখ-দুঃখ, প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির বৃত্তেই আবদ্ধ রয়। অথচ আমি বলছি এক ভিন্ন ভবিষ্যতের কথা, এক অনন্ত কালের যাত্রার কথা যে জীবনের নেই কোনো সমাপ্তি, যার শুরু কেবল একবারই হয়। সেই অসীম জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত রচিত হবে এই ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ার কর্মের মাধ্যমে।



আমরা যে বাস্তবতায় স্থিত, আমাদের ভাবনাগুলোও সেই গণ্ডিতেই আবদ্ধ থাকে। ভবিষ্যৎ বলতে আমরা বুঝি আমাদের কর্মস্থল, আপনজন, সামাজিক প্রতিপত্তি, কিংবা পার্থিব সাফল্যের সিঁড়ি। অনন্তকালের জীবন আখিরাতের ভাবনা যেন আমাদের চিন্তার দিগন্তে ক্ষণিকের এক অতিথি, যা আসে আর নীরবে আবার মিলিয়ে যায়। সেই সুদূর ভবিষ্যতের চিন্তা আমাদের বর্তমানের কর্মে কোনো স্থায়ী প্রভাব ফেলে না।



আমরা নিজেরাই যেন অজান্তে, নিজেদের হাতে রচনা করছি সেই অনন্ত জীবনের বিষাদময় অধ্যায়। পাপের পথে আমাদের পদচারণা অবিরাম, অথচ সেই ভুল পথে চলার অনুশোচনা বা তা থেকে ফিরে আসার ফুরসত বিন্দুমাত্র আমাদের নেই। 



আমরা অনেকেই ভিন্ন ভিন্ন মায়া জালে বন্দি কেউ সংসারের মোহ, সম্পদ বা প্রাচুর্যের প্রতি তীব্র আকাঙ্ক্ষা, অথবা ক্ষমতার বিলাসিতা। এই মায়ার বন্ধন ছিন্ন করার শক্তি যেন আমাদের নেই। আমরা মত্ত হয়েছি, এই মোহ, এই ক্ষণিকের আকর্ষণ অথচ একদিন সব কিছু বিলীন হয়ে যাবে। কিন্তু তারপর সেই অনন্তকালে দিকে আমাদের প্রত্যাবর্তন করতে হবে।


কিছু মানুষ লোভের তীব্রতায়, মোহের মগ্নতায়, ভালোবাসায় প্রত্যাশায়, অথবা পার্থিব উন্নতির নেশায় আত্মহারা। এই ক্ষণিকের জীবনে তারা আরাম-আয়েশে মগ্ন, অথচ এই ক্ষণস্থায়ী জীবনের অন্তিম মুহূর্তেই পরেই শুরু হবে সেই অনন্ত জীবন। যদি আমরা এই ভুল পথে নিজেদের পরিচালিত করতে থাকি, তাহলে জাহান্নামের প্রজ্বলিত অগ্নি আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে এই বাস্তবতাকে অস্বীকার করার কোনো সাধ্য আমাদের নেই।



আমরা যখন আমাদের সৃষ্টিকর্তা অবাধ্য হ‌ই, তখন সামান্য সময়ের জন্য হয়তো অনুশোচনা হয়। কিন্তু সেই অনুশোচনাও দীর্ঘস্থায়ী নয়। কিছুদিন পর সেই অবাধ্যতা আমাদের অভ্যাসে পরিণত হয়। আমরা সেটা খুব‌ই সামান্য বলে মনে করি। আমরা আমাদের হৃদয় এতটাই কঠিন করে ফেলি যে, সামান্য বলে উড়িয়ে দেই। আমরা ভুলে যায় আমাদের তার কাছেই ফিরে যেতে হবে এবং যেখানে আমাদের প্রতিটি মুহূর্তের হিসাব নেওয়া হবে।


আমরা সেই অনন্ত কালের জীবনের কথা বেমালুম ভুলে যাই। সেই জীবন হবে চিরস্থায়ী একদিকে পরম শান্তি ও আরাম, অন্যদিকে সীমাহীন কষ্ট ও যন্ত্রণা। আর এই জীবন সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করবে এই ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ায় আমাদের কৃতকর্মের উপর, যে জীবনকে আমরা নিতান্তই অবহেলায় কাটিয়ে দিচ্ছি।



প্রতিদিন আমাদের চোখের সামনে কত মানুষ এই নশ্বর পৃথিবী ছেড়ে চলে যাচ্ছে। যাদের জন্য আমরা পার্থিব সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যকে এতো মূল্যবান মনে করি, তাদের বিদায় আমাদের ব্যথিত করে তোলে ক্ষণিকের জন্য আমাদের হৃদয় কমল হয়, কিন্তু সেই অনুভূতিও ক্ষণস্থায়ী। কিছুদিনের মধ্যেই আমরা সেই শোক ভুলে যাই এবং আবারও সৃষ্টিকর্তার অবাধ্যতা এবং পাপাচারের স্রোতে গা ভাসিয়ে দিই।



আমরা কি কখনো গভীরভাবে ভেবে দেখেছি, এই ক্ষণিকের মোহের আবরণ সরিয়ে অনন্ত জীবনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া উচিত? আমরা কি জানি, কখন আমাদের জীবনের অন্তিম মুহূর্ত আসবে? মৃত্যুর পূর্বে অনুতপ্ত হওয়ার সুযোগ পাব কি না, তা তো নিশ্চিত নয়। অথচ আমরা আত্মবিশ্বাসের সাথে মনে করি, মৃত্যুর পূর্বমুহূর্তে আমরা সবকিছু ঠিক করে নেব।

অথচ মৃত্যু আমাদের হাতের মুঠোয় শুধু সময়টা অজানা।


আমাদের আকাঙ্ক্ষা আকাশের মতো বিশাল, কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের পথে আমরা যে জীবনকে উপভোগ করছি, সেই জীবনই আমাদের ধীরে ধীরে ধ্বংসের দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে।



তাই আসুন, আমরা এখন থেকেই আমাদের পার্থিব জীবনের পাশাপাশি অনন্ত কালের জীবনের ভাবনা হৃদয়ে ধারণ করি। এই নশ্বর জগৎ ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু আখিরাতের জীবন চিরন্তন বা চিরস্থায়ী। তাই আমাদের উচিত সৃষ্টিকর্তার আনুগত্য করা। যা সেই অনন্ত কালের জীবনে আমাদের জন্য শান্তির আবাস গড়ে তোলে এবং জাহান্নামের ভয়াবহ আগুনের শাস্তি থেকে মুক্তি দেয়।

সৃষ্টিকর্তার আনুগত্যেই চিরস্থায়ী শান্তি লুকিয়ে থাকে!


প্রত্যেকটি মুহূর্ত মূল্যবান, এবং এই মুহূর্তগুলোই আমাদের চিরস্থায়ী ভবিষ্যতের ভিত্তি রচনা করে।

Tags