Type Here to Get Search Results !

ঈমান ভঙ্গের দশটি কারণ।

ইসলামে ঈমান ভঙ্গের দশটি কারণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়গুলো জানা প্রতিটি মুসলিমের জন্য অপরিহার্য, কারণ এগুলো এড়িয়ে চললে ঈমান রক্ষা করা সম্ভব। যদি কোনো ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে বা জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও এই কাজগুলোর কোনো একটিতে লিপ্ত হয়, তাহলে সে ইসলাম থেকে বেরিয়ে যায় এবং তার ঈমান নষ্ট হয়ে যায়। এক্ষেত্রে তাকে তওবা করে পুনরায় ঈমান গ্রহণ করতে হয়।


ঈমান ভঙ্গের দশটি কারণ নিচে উল্লেখ করা হলো:


১. আল্লাহর ইবাদতে শিরক করা:
আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে অংশীদার স্থাপন করা বা আল্লাহর গুণাবলীতে অন্য কাউকে শরীক করা। যেমন, আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো কাছে সাহায্য চাওয়া, কোনো পীর, অলি-আউলিয়া, বা মৃত ব্যক্তির কাছে দোয়া করা, বা তাদের নামে মানত করা ইত্যাদি। আল্লাহ তা'আলা শিরককে সবচেয়ে বড় গুনাহ বলে উল্লেখ করেছেন এবং শিরকের গুনাহ ক্ষমা করেন না।


২. আল্লাহ ও বান্দার মাঝে মধ্যস্থতাকারী সাব্যস্ত করা:
যদি কোনো ব্যক্তি আল্লাহকে ডাকা বা তাঁর কাছে সাহায্য চাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো মাধ্যম গ্রহণ করে এবং সেই মাধ্যমকে শাফায়াতের যোগ্য মনে করে, তাহলে তার ঈমান নষ্ট হয়ে যাবে। কারণ সুপারিশ বা শাফায়াতের একমাত্র মালিক আল্লাহ।


৩. মুশরিক-কাফিরদের কাফির মনে না করা:
যদি কোনো মুসলিম মুশরিক বা কাফিরদেরকে কাফির মনে না করে, অথবা তাদের কুফরিতে সন্দেহ পোষণ করে, অথবা তাদের ধর্মকে সঠিক মনে করে, তাহলে সে নিজেও কাফির হয়ে যাবে। কারণ এটি আল্লাহর কিতাব ও রাসূলের সুন্নাহর সুস্পষ্ট বিরোধিতা।


৪. নবীজি (সা.)-এর কথার চেয়ে অন্য কারও কথাকে উত্তম মনে করা:
যদি কোনো ব্যক্তি নবীজি (সা.)-এর শরীয়ত বা তাঁর ফায়সালার তুলনায় অন্য কারো বিধান বা ফায়সালাকে উত্তম মনে করে, বা রাসুল (সা.)-এর পথনির্দেশনাকে অপছন্দ করে, তাহলে তার ঈমান থাকে না। ইসলামে রাসূল (সা.)-এর প্রতিটি নির্দেশ ও ফায়সালা মানা আবশ্যক।


৫. মুহাম্মাদ (সা.) আনীত কোনো বিধানকে অপছন্দ করা:
ইসলামের কোনো বিধানকে অপছন্দ করা বা তার প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা, এমনকি যদি সেই বিধান অনুযায়ী আমলও করে থাকে, তাহলেও ঈমান নষ্ট হতে পারে। আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন, তার প্রতি পূর্ণ সন্তুষ্টি থাকা ঈমানের অংশ।


৬. দীনের কোনো বিধান নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করা:
আল্লাহ, তাঁর আয়াতসমূহ, রাসূল (সা.) বা ইসলামের কোনো বিধান নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করা সরাসরি কুফরি। এটি ঈমান ভঙ্গের অন্যতম কারণ।


৭. জাদু করা বা জাদুতে বিশ্বাস স্থাপন করা:
জাদু করা বা জাদুকারীকে সমর্থন করা, কিংবা জাদু দ্বারা কারো ক্ষতি করার চেষ্টা করা, অথবা জাদু বা তাবিজ-কবজে বিশ্বাস স্থাপন করা ঈমান পরিপন্থী কাজ। কারণ এর মাধ্যমে শয়তানের সাহায্য চাওয়া হয় এবং আল্লাহর উপর ভরসা কমে যায়।


৮. মুসলিমদের বিরুদ্ধে মুশরিকদের সমর্থন ও সহযোগিতা করা:
মুসলিমদের বিরুদ্ধে অমুসলিমদের সমর্থন ও সহযোগিতা করা, বিশেষ করে যুদ্ধের সময়, অথবা মুসলিমদের ক্ষতির উদ্দেশ্যে কাফিরদের সাথে জোট বাঁধা ঈমান ভঙ্গের কারণ।


৯. কাউকে দীন-শরিয়তের ঊর্ধ্বে মনে করা:
যদি কেউ মনে করে যে, মুহাম্মাদ (সা.)-এর শরীয়ত ব্যতীত অন্য কোনো ধর্মে জীবন পরিচালনা করলেও জান্নাত পাওয়া যাবে বা আল্লাহর সন্তুষ্টি পাওয়া সম্ভব, তাহলে সে কাফির হয়ে যাবে। ইসলামই আল্লাহর মনোনীত একমাত্র দ্বীন।


১০. দীন থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া:
আল্লাহর দ্বীন থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া, অর্থাৎ ইসলাম শেখার ও জানার চেষ্টা না করা এবং এর উপর আমল না করা। বিশেষ করে যখন দ্বীনের আহ্বান আসে, তখন তা উপেক্ষা করা বা সে সম্পর্কে উদাসীন থাকা।


যদি কোনো ব্যক্তি এই কারণগুলোর কোনো একটিতে লিপ্ত হয়, তাহলে তাকে অবিলম্বে তওবা করতে হবে, কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হতে হবে, এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকার দৃঢ় সংকল্প করতে হবে। এরপর তাকে নতুন করে কালেমা শাহাদাহ পাঠ করে ঈমান নবায়ন করতে হবে।

Tags