সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দোআ সমূহ।
১. উপকারী জ্ঞান, হালাল রিযিক ও কবুলযোগ্য আমলের দোআ
اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ عِلْمًا نَافِعًا، وَرِزْقًا طَيِّبًا، وَعَمَلًا مُتَقَبَّلًا
উচ্চারণ:
আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা ইলমান নাফিআ, ওয়া রিযক্বান ত্বাইয়িবান, ওয়া আমালান মুতাক্বাব্বালা।
অর্থ:
হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট উপকারী জ্ঞান, পবিত্র রিযিক এবং কবুলযোগ্য আমল প্রার্থনা করি।
২. আল্লাহর ওপর ভরসার দোআ
حسبي الله لا إلَهَ إِلا هُوَ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَهُوَ رَبُّ الْعَرْشِ العظيم
উচ্চারণ:
হাসবিয়াল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুয়া আলাইহি তাওয়াক্কালতু, ওয়া হুয়া রাব্বুল আরশিল আজিম।
অর্থ:
আল্লাহ তাআলাই আমার জন্য যথেষ্ট। তিনি ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই। তাঁরই ওপর আমি ভরসা করি। তিনিই মহা আরশের অধিপতি।
৩. সর্বাধিক প্রিয় চার বাক্য
سُبْحَانَ اللّٰهِ، وَالْحَمْدُ لِلّٰهِ، وَلَآ اِلٰهَ اِلَّا اللّٰهُ، وَاللّٰهُ اَكْبَرُ
উচ্চারণ:
সুবহানাল্লা-হি, ওয়ালহামদু লিল্লা-হি, ওয়ালা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু, ওয়াল্লা-হু আকবার।
অর্থ:
আল্লাহ পবিত্র-মহান। সকল প্রশংসা আল্লাহর। আল্লাহ ছাড়া কোনো হক্ব ইলাহ নেই। আল্লাহ সবচেয়ে বড়।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন,
"সূর্য যা কিছুর উপর উদিত হয়, তার চেয়ে এগুলো বলা আমার কাছে অধিক প্রিয়।"
(মুসলিম ৩/১৬৮৫, হাদিস নং ২১৩৭; মুসলিম, ৪/২০৭২, হাদিস নং ২৬৯৫)
৪. রুকইয়াহ: ব্যথা বা রোগ হলে পড়ার দোআ
আপনার দেহের যে স্থানে আপনি ব্যথা অনুভব করছেন, সেখানে আপনার হাত রেখে তিনবার বলুন,
بِسْمِ اللّٰهِ
উচ্চারণ: বিসমিল্লাহ।
অর্থ: আল্লাহর নামে।
তারপর সাতবার বলুন,
اَعُوْذُ بِاللّٰهِ وَقُدْرَتِهٖ مِنْ شَرِّ مَآ اَجِدُ وَاُحَاذِرُ
উচ্চারণ:
আ‘ঊযু বিল্লা-হি ওয়া ক্বুদরাতিহী মিন শাররি মা আজিদু ওয়া উহা-যিরু।
অর্থ:
এই যে ব্যথা আমি অনুভব করছি এবং যার আমি আশঙ্কা করছি, তা থেকে আমি আল্লাহ্র এবং তাঁর কুদরতের আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
(মুসলিম ৪/১৭২৮, হাদিস নং ২২০২)
৫. দুর্দশাগ্রস্ত ব্যক্তির দো‘আ
لَآ اِلٰهَ اِلَّا اللّٰهُ الْعَظِيْمُ الْحَلِيْمُ، لَآ اِلٰهَ اِلَّا اللّٰهُ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيْمِ، لَآ اِلٰهَ اِلَّا اللّٰهُ رَبُّ السَّمَاوَاتِ وَرَبُّ الْاَرْضِ وَرَبُّ الْعَرْشِ الْكَرِيْمِ
উচ্চারণ:
লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হুল ‘আযীমূল হালীম। লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু রব্বুল ‘আরশিল ‘আযীম। লা ইলাহা ইল্লাল্লা-হু রব্বুস সামা-ওয়া-তি ওয়া রব্বুল আরদ্বি ওয়া রব্বুল ‘আরশিল কারীম।
অর্থ:
আল্লাহ ছাড়া কোনো হক্ব ইলাহ নেই, তিনি মহান ও সহিষ্ণু। আল্লাহ ছাড়া কোনো হক্ব ইলাহ নেই, তিনি মহান আরশের রব্ব। আল্লাহ ছাড়া কোনো হক্ব ইলাহ নেই, তিনি আসমানসমূহের রব্ব, যমীনের রব্ব এবং সম্মানিত আরশের রব্ব।
ইবনু আব্বাস (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিপদ বা কষ্টের সময় এ কথাগুলো বলতেন।
(বুখারী ৫/২৩৩৬ (ভা ২/৯৩৯); মুসলিম ৪/২০৯২, হাদিস নং ২৭৩০ (ভা ২/৩৫১)
৬. পাহাড় পরিমাণ ঋণ পরিশোধের দোয়া
اللَّهُمَّ اكْفِنِي بِحَلَالِكَ عَنْ حَرَامِكَ، وَأَغْنِنِي بِفَضْلِكَ عَمَّنْ سِوَاكَ
উচ্চারণ:
আল্লাহুম্মাকফিনী বি হালালিকা আন হারামিকা, ওয়া আগনিনী বি ফাদলিকা আম্মান সিওয়াক।
অর্থ:
হে আল্লাহ! তুমি তোমার হালাল দ্বারা আমাকে হারাম থেকে রক্ষা করো এবং তোমার অনুগ্রহ দ্বারা আমাকে তোমাকে ছাড়া অন্যের মুখাপেক্ষী হওয়া থেকে মুক্ত করো। (তিরমিজি: ৩৫৬৩)
৭. প্রাচুর্যের জন্য দোয়া
رَبِّ هَبْ لِي مُلْكًا لَا يَنْبَغِي لِأَحَدٍ
উচ্চারণ:
রব্বি হাবলি মুলকান লা ইয়ামবাগি লী আহাদ।
অর্থ:
হে আমার প্রতিপালক! আমাকে এমন রাজত্ব দান করো, যা আমার পর আর কাউকে মানায় না।
৮. সিজদায় পড়ার দোয়া
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
"বান্দা সিজদার সময় আল্লাহর সবচেয়ে নিকটবর্তী হয়। তাই তোমরা সিজদায় বেশি বেশি দোয়া করো।" (মুসলিম, হাদিস: ৪৮২)
১. রাসূলুল্লাহ ﷺ : দুই সিজদার মাঝখানে দোয়া পড়ছিলেন। দুই সিজদার মাঝে তিনি সিজদার সমপরিমাণ বসেও ছিলেন। দোয়াটি হলো—
رَبِّ اغْفِرْ لِي رَبِّ اغْفِرْ لِي
উচ্চারণ:
‘রাব্বিগ ফিরলি, রাব্বিগ ফিরলি।’
অর্থ:
হে প্রতিপালক! আমাকে মাফ করে দিন, আমাকে মাফ করে দিন। (মুসলিম, হাদিস: ৭৭২)
২. হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, যে রাতে তিনি তাঁর খালা মাইমুনা (রা.)-এর ঘরে রাত্রি যাপন করেন। তিনি রাতে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নামাজের বিবরণ দিতে গিয়ে বলেন, রাসুল (সা.) যখন সিজদা থেকে মাথা উঠাতেন তখন তিনি নিচের দোয়াটি পড়তেন—
اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي وَارْحَمْنِي، وَاجْبُرْنِي وَاهْدِنِي وَارْزُقْنِي
উচ্চারণ:
আল্লাহুম্মাগ ফিরলি, ওয়ার হামনি, ওয়াজ বুরনি, ওয়াহ দিনি, ওয়ার জুকনি।
অর্থ:
হে আল্লাহ! আমাকে মাফ করুন, দয়া করুন, আমার মর্যাদা বৃদ্ধি করুন, আমাকে রিজিক দান করুন এবং হেদায়েত দিন। (বাইহাকি, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ১২২)
৩. রাসূলুল্লাহ ﷺ যখন সিজদায় যেতেন, তখন আল্লাহর কাছে বিভিন্ন দোয়া করতেন। এই দোয়াটি বিশেষভাবে সিজদায় পড়ার জন্য বর্ণিত হয়েছে।
اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي ، وَارْحَمْنِي ، وَاجْبُرْنِي ، وَاهْدِنِي ، وَارْزُقْنِي ، وَعَافِنِي ، وَارْفَعْنِي
উচ্চারণ:
আল্লাহুম্মাগ ফিরলি, ওয়ার হামনি, ওয়াজবুরনি, ওয়াহদিনি, ওয়ারজুকনি, ওয়া আ’ফিনি, ওয়ারফা’নি।
অর্থ :
হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করুন, আমার ওপর রহম করুন। আমার প্রয়োজন পুরো করে দিন। আমাকে সঠিক পথে পরিচালিত করুন এবং আমাকে রিজিক দান করুন। আমাকে সুস্থতা দান করুন এবং আমার সম্মান বৃদ্ধি করুন। (আবু দাউদ, হাদিস : ৮৫০; ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৮৮৮)
৯. অসুস্থ অবস্থায় দোয়া
رَبِّ إِنِّي مَسَّنِيَ الضُّرُّ وَأَنتَ أَرْحَمُ الرَّاحِمِينَ
উচ্চারণ:
রাব্বি আন্নি মাস্সানিয়াদ্দ্বুর্ ওয়া আন্তা আরহামুর্ রাহিমিন।
অর্থ:
আমি দুঃখ-কষ্টে পড়েছি, তুমিতো সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু।
(সূরা আম্বিয়া, আয়াত : ৮৩)
১০. ইসমে আজম
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
"যে ব্যক্তি দুঃখ-কষ্টে পড়লে এই দোয়া পড়বে আল্লাহ তাকে মুক্তি দেবেন।"
(তিরমিজি: ৩৫২৪, হাকিম: ১/৫৪৫, মুসনাদ আহমদ: ১৭৪৮০, সহিহ)
দোয়া:
يَا حَيُّ يَا قَيُّومُ بِرَحْمَتِكَ أَسْتَغِيثُ
উচ্চারণ: ইয়াহাইয়ু ইয়া কাইয়ুম বিরাহমাতিকা আস্তাগিস।
অর্থ: হে চিরঞ্জীব, হে চিরস্থায়ী! আপনার রহমতের মাধ্যমে আপনার নিকট সাহায্য চাই।
১১. ক্ষমা পাওয়ার দোয়া
اللَّهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ تُحِبُّ العَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন, তুহিব্বুল আফওয়া ফা’ফু আন্না।
অর্থ: হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই তুমি ক্ষমাশীল, তুমি ক্ষমা করতে ভালোবাসো! অতএব আমাকে ক্ষমা করো।
১২. উত্তম কল্যাণের দোয়া
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مِنَ الْخَيْرِ كُلِّهِ، عَاجِلِهِ وَآجِلِهِ، مَا عَلِمْتُ مِنْهُ وَمَا لَمْ أَعْلَمْ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল ফাখরি, ওয়াল কিল্লাতি, ওয়াজ জিল্লা…
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে সমস্ত কল্যাণ চাই, বর্তমান ও ভবিষ্যতে, যা আমি জানি এবং যা আমি জানি না।
১৩. উত্তম জীবনসঙ্গীর জন্য দোয়া
১. উত্তম জীবনসঙ্গী পাওয়ার জন্য দোয়া
اللَّهُمَّ اخْتَرْ لِي زَوْجًا صَالِحًا يُقَرِّبُنِي إِلَيْكَ وَيُبَارِكُ لِي فِي دِينِي وَدُنْيَايَ
উচ্চারণ:
আল্লাহুম্মাখতার লি যাওজান সালিহান ইউকাররিবুনি ইলাইকা ওয়া ইউবারিকু লি ফি দীনি ওয়া দুনইয়া।
অর্থ:
হে আল্লাহ! আমার জন্য এমন এক নেক জীবনসঙ্গী বেছে নিন, যে আমাকে আপনার নিকটবর্তী করবে এবং আমার দ্বীন ও দুনিয়ায় বরকত দান করবে।
২. দাম্পত্য জীবনের জন্য দোয়া
رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا
উচ্চারণ:
রাব্বানা হাব লানা মিন আজওয়াজিনা ওয়া যুবুরিয়্যাতিনা কুররাতা আ’ইউনিন ওয়া’জআলনা লিল্মুত্তাক্বীনা ইমামা।
অর্থ:
হে আমাদের রব! আমাদের স্ত্রী ও সন্তানদের আমাদের চোখের শীতলতা বানান এবং আমাদের মুত্তাকিদের নেতা করুন।
(সূরা আল-ফুরকান: ৭৪)
৩. দাম্পত্য কলহ ও দ্বন্দ্ব দূর করার দোয়া
اللهم ألِّفْ بين قلوبنا وأصلح ذات بيننا واهدنا سُبُلَ السلام
উচ্চারণ:
আল্লাহুম্মা আল্লিফ বাইনা কুলুবিনা ওয়া আসলিহ্ যা-তা বাইনিনা ওয়া-হদিনা সুবুলাস সালাম।
অর্থ:
হে আল্লাহ! আমাদের অন্তরগুলো এক করে দিন, আমাদের মাঝে সম্প্রীতি সৃষ্টি করুন এবং আমাদের শান্তির পথে পরিচালিত করুন।
১৪. অশুভ ধারণা হলে
কিছু দেখে বা শুনে অশুভ ধারণা হলে বা ক্ষতি কিংবা অসাফল্যের আশঙ্কা হলে নিম্নের দুআ' পড়বে;
اللَّهُمَّ لَا طَيْرَ إِلَّا طَيْرُكَ، وَلَا خَيْرَ إِلَّا خَيْرُكَ، وَلَا إِلَهَ غَيْرُكَ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা লা তাইরা ইল্লা তাইরুক, অলা খাইরা ইল্লা খাইরুক, অলা ইলাহা গাইরুক।
অর্থ- হে আল্লাহ! তোমার (সৃষ্ট) অশুভ ছাড়া অন্য কিছু অশুভ নেই, তোমার মঙ্গল ছাড়া অন্য কোন মঙ্গল নেই এবং তুমি ছাড়া কোন সত্য উপাস্য নেই।
১৫. অভাব ও লাঞ্ছনা থেকে মুক্তির
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الفَقْرِ، وَالقِلَّةِ، وَالذِّلَّةِ
উচ্চারণ:
আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযু বিকা মিনাল ফাকরি, ওয়াল কিল্লাতি, ওয়ায্যিল্লাহ।
অর্থ:
হে আল্লাহ! আমি আপনার আশ্রয় চাই, দারিদ্রতা থেকে, স্বল্পতা থেকে (অভাব ও সংকীর্ণতা) এবং লাঞ্ছনা থেকে।
১৬. বদ নজর থেকে মুক্তি
আল কোরআনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ দোয়া সমূহ:
১. বিপদ ও দুঃখ-কষ্ট থেকে মুক্তির দোয়া
رَبِّ إِنِّي مَسَّنِيَ الضُّرُّ وَأَنتَ أَرْحَمُ الرَّاحِمِينَ
উচ্চারণ: রাব্বি ইন্নি মাস্সানিয়াদ্ দুর্ ওয়া আন্তা আরহামুর রাহিমিন।
অর্থ: আমি দুঃখ-কষ্টে পড়েছি, তুমিতো সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু।
(সূরা আম্বিয়া, আয়াত: ৮৩)
২. ক্ষমা ও দয়া প্রার্থনার দোয়া
رَبَّنَا ظَلَمْنَا أَنفُسَنَا وَإِن لَّمْ تَغْفِرْ لَنَا وَتَرْحَمْنَا لَنَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ
উচ্চারণ: রাব্বানা জলামনা আনফুসানা ওয়া ইল্লাম তাগফিরলানা ওয়া তারহামনা লানাকুনান্না মিনাল খাসিরিন।
অর্থ: হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা নিজেদের ওপর অত্যাচার করেছি, যদি তুমি আমাদের ক্ষমা না করো এবং দয়া না করো, তবে আমরা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব।
(সূরা আরাফ, আয়াত: ২৩)
৩. আল্লাহর সাহায্য ও ধৈর্যের দোয়া
رَبَّنَا أَفْرِغْ عَلَيْنَا صَبْرًا وَثَبِّتْ أَقْدَامَنَا وَانصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ
উচ্চারণ: রাব্বানা আফরিগ আলাইনা সাবরাঁও ওয়া সাব্বিত আকদামানা ওয়ানসুরনা আলাল কাওমিল কাফিরিন।
অর্থ: হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের উপর ধৈর্য বর্ষণ কর, আমাদেরকে দৃঢ় রাখ এবং কাফের সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদেরকে সাহায্য কর।
(সূরা বাকারা, আয়াত: ২৫০)
৪. সকল কল্যাণ ও নেকি লাভের দোয়া
رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ
উচ্চারণ: রাব্বানা আতিনা ফিদ্দুনিয়া হাসানাতাও ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাতাও ওয়া কিনা আজাবান নার।
অর্থ: হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে দুনিয়ায় কল্যাণ দান কর, আখিরাতে কল্যাণ দান কর এবং জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা কর।
(সূরা বাকারা, আয়াত: ২০১)
৫. তাওবা ও মাগফিরাতের দোয়া
رَبِّ اغْفِرْ لِي وَلِوَالِدَيَّ وَلِلْمُؤْمِنِينَ يَوْمَ يَقُومُ الْحِسَابُ
উচ্চারণ: রাব্বিগফিরলি ওয়ালিওয়ালিদাইয়া ওয়ালিল মু’মিনিনা ইয়াওমা ইয়াকুমুল হিসাব।
অর্থ: হে আমার প্রতিপালক! আমাকে ক্ষমা কর, আমার পিতামাতাকে ক্ষমা কর এবং সেই দিন সকল মুমিনকে ক্ষমা কর, যেদিন হিসাব-নিকাশ স্থাপিত হবে।
(সূরা ইবরাহিম, আয়াত: ৪১)
৬. আত্মশুদ্ধি ও হেদায়েতের দোয়া
رَبِّ اشْرَحْ لِي صَدْرِي وَيَسِّرْ لِي أَمْرِي
উচ্চারণ: রাব্বিশরাহ্ লি সাদরি, ওয়া ইয়াস্সিরলি আমরি।
অর্থ: হে আমার প্রতিপালক! আমার বক্ষ উদার করে দাও, এবং আমার কাজ সহজ করে দাও।
(সূরা ত্বাহা, আয়াত: ২৫-২৬)
৭. ইমানের দৃঢ়তার জন্য দোয়া
رَبَّنَا لَا تُزِغْ قُلُوبَنَا بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنَا وَهَبْ لَنَا مِنْ لَدُنْكَ رَحْمَةً إِنَّكَ أَنْتَ الْوَهَّابُ
উচ্চারণ: রাব্বানা লা তুযিগ কুলুবানা বা’দা ইয হাদাইতানা ওয়াহাব লানা মিল্লাদুনকা রাহমাতান ইন্নাকা আন্তাল ওয়াহহাব।
অর্থ: হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি যখন আমাদের হিদায়াত দিয়েছ, তখন আমাদের হৃদয়কে কুপথে চালিত কোরো না এবং তোমার কাছ থেকে আমাদের প্রতি দয়া দান কর। নিশ্চয়ই তুমি মহান দাতা।
(সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ৮)
৮. বিপদ ও শত্রুর ভয় থেকে মুক্তির দোয়া
حَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ
উচ্চারণ: হাসবুনাল্লাহু ওয়া নিঅমাল ওয়াকিল।
অর্থ: আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট, আর তিনিই সর্বোত্তম অভিভাবক।
(সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৭৩)
৯. কষ্ট দূর ও সহজতার জন্য দোয়া
لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنتُ مِنَ الظَّالِمِينَ
উচ্চারণ: লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ জ্বালিমিন।
অর্থ: তুমি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই, তুমি পবিত্র, আমি নিশ্চয়ই অন্যায়কারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম।
(সূরা আম্বিয়া, আয়াত: ৮৭ – হজরত ইউনুস (আ.)-এর দোয়া)
১০. রিজিক বৃদ্ধির জন্য দোয়া
وَقُلْ رَبِّ زِدْنِي عِلْمًا
উচ্চারণ: ওয়া কুল রাব্বি যিদনি ইলমা।
অর্থ: বলুন, হে আমার প্রতিপালক! আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করুন।
(সূরা ত্বাহা, আয়াত: ১১৪)
১১. বিয়ে ও ভালো জীবনসঙ্গী পাওয়ার দোয়া
رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا
উচ্চারণ: রাব্বানা হাব লানা মিন আজওয়াজিনা ওয়া জুররিয়্যাতিনা কুররাতা আ’ইউনিন ওয়াজআলনা লিল মুত্তাকিনা ইমামা।
অর্থ: হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের স্ত্রী ও সন্তানদেরকে আমাদের জন্য চক্ষুশীতলতা করো এবং আমাদেরকে মুত্তাকিদের নেতা বানাও।
(সূরা ফুরকান, আয়াত: ৭৪)
১২. বিপদে পড়লে বা কঠিন অবস্থায় সাহায্যের জন্য দোয়া
إِنِّي مَغْلُوبٌ فَانْتَصِرْ
উচ্চারণ: ইন্নি মাগলুবুন ফানতাসির।
অর্থ: আমি পরাজিত, তুমি (আমাকে) সাহায্য করো।
(সূরা কামের, আয়াত: ১০ – হজরত নূহ (আ.)-এর দোয়া)
১৩. কল্যাণের জন্য দোয়া
وَقُلْ رَبِّ أَدْخِلْنِي مُدْخَلَ صِدْقٍ وَأَخْرِجْنِي مُخْرَجَ صِدْقٍ وَاجْعَل لِّي مِن لَّدُنكَ سُلْطَانًا نَّصِيرًا
উচ্চারণ: ওয়া কুল রাব্বি আদখিলনি মুদখালা সিদকিন ওয়া আখরিজনি মুখরাজা সিদকিন ওয়াজআললি মিল্লাদুংকা সুলতানান নাসিরা।
অর্থ: হে আমার প্রতিপালক! আমাকে সত্যতার সঙ্গে প্রবেশ করাও, সত্যতার সঙ্গে বের করো এবং তোমার পক্ষ থেকে আমাকে সাহায্যকারী শক্তি দান করো।
(সূরা ইসরা, আয়াত: ৮০)
১৪. হৃদয়ের প্রশান্তির জন্য দোয়া
إِنِّي ذَاهِبٌ إِلَىٰ رَبِّي سَيَهْدِينِ
উচ্চারণ:
ইন্নি যাওহিবুন ইলা রব্বি সাইয়াহদিন।
অর্থ:
নিশ্চয়ই আমি আমার রবের দিকে যাচ্ছি, তিনি আমাকে পথ দেখাবেন।
(সূরা আস-সাফফাত (৩৭:৯৯)