আমাদের মিছিল
আমাদের এ মিছিল নিকট অতীত থেকে অনন্তকালের দিকে।
আমরা বদর থেকে ওহুদ হয়ে এখানে,
শত সংঘাতের মধ্যে এ কাফেলায় এসে দাঁড়িয়েছি।
কে প্রশ্ন করে, আমরা কোথায় যাবো?
আমরা তো বলেছি—আমাদের যাত্রা অনন্তকালের।
উদয় ও অস্তের ক্লান্তি আমাদের কোনদিনই বিহ্বল করতে পারেনি।
আমাদের দেহ ক্ষত-বিক্ষত,
আমাদের রক্তে সবুজ হয়ে উঠেছিল মুতার প্রান্তর।
পৃথিবীতে যত গোলাপ ফুল ফোটে, তার লাল বর্ণ আমাদের রক্ত,
তার সুগন্ধ আমাদের নিঃশ্বাস বায়ু।
আমাদের হাতে একটিমাত্র গ্রন্থ—আল কুরআন।
এই পবিত্র গ্রন্থ কোনদিন, কোন অবস্থায়, কোন তৌহীদবাদীকে থামতে দেয়নি। আমরা কী করে থামি?
আমাদের গন্তব্য তো এক সোনার তোরণের দিকে, যা এই ভূ-পৃষ্ঠে নেই।
আমরা আমাদের সঙ্গীদের চেহারার ভিন্নতাকে গ্রাহ্যের মধ্যে আনি না,
কারণ আমাদের আত্মার গুঞ্জন হু হু করে বলে—
আমরা এক আত্মা, এক প্রাণ।
শহীদের চেহারার কোনো ভিন্নতা নেই।
আমরা তো শাহাদাতের জন্যই মায়ের উদর থেকে পৃথিবীতে পা রেখেছি।
কেউ পাথরে, কেউ তাঁবুর ছায়ায়,
কেউ মরুভূমির উষ্ণ বালু কিংবা সবুজ কোনো ঘাসের দেশে চলছি।
আমরা আজন্ম মিছিলেই আছি—
এর আদি বা অন্ত নেই।
পনেরো শত বছর ধরে সভ্যতার উত্থান-পতনে
আমাদের পদশব্দ একটুও থামেনি।
আমাদের কত সাথীকে আমরা এই ভূ-পৃষ্ঠের কন্দরে কন্দরে রেখে এসেছি!
তাদের কবরে ভবিষ্যতের গুঞ্জন একদিন মধুমক্ষিকার মতো গুঞ্জন তুলবে।
আমরা জানি—
আমাদের ভয় দেখিয়ে শয়তান নিজেই অন্ধকারে পালিয়ে যায়।
আমাদের মুখয়বয়ে আগামী ঊষার উদয়কালের নরম আলোর ঝলকানি।
আমাদের মিছিল ভয় ও ধ্বংসের মধ্যে বিশ্রাম নেয়নি, নেবে না।
আমাদের পতাকায় কালেমা তাইয়্যেবা।
আমাদের এই বাণী কাউকে কোনোদিন থামতে দেয়নি। আমরাও থামবো না।
