একজন লোক সুন্দরী মেয়েকে বিয়ে করলেন। তিনি তার স্ত্রীকে অত্যন্ত ভালোবাসতেন। কিছুদিন পর তার স্ত্রী এক অদ্ভুত চর্মরোগে আক্রান্ত হলেন। ধীরে ধীরে তার সৌন্দর্য হারাতে শুরু করল।
একদিন তারা বেড়াতে গেলেন, ফেরার পথে এক দুর্ঘটনায় স্বামী তার দৃষ্টিশক্তি হারালেন। তবে তাদের বৈবাহিক জীবন আগের মতোই চলতে থাকল। স্ত্রী তার সৌন্দর্য পুরোপুরি হারালেও স্বামী তা বুঝতে পারলেন না। কারণ তিনি তখন দৃষ্টিহীন। তাদের ভালোবাসার মধ্যে কোনো ফারাক আসেনি।
একদিন সেই স্ত্রী মারা গেলেন। স্বামী তার স্ত্রীর সবশেষকৃত্য সম্পন্ন করে শহর ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। তখন এক প্রতিবেশী তাকে জিজ্ঞেস করলেন,
“এখন আপনি একা একা কীভাবে চলবেন? এতদিন তো আপনার স্ত্রী আপনাকে সাহায্য করতেন।”
স্বামী উত্তর দিলেন,
“আমি অন্ধ নই। আমি অভিনয় করতাম। কারণ আমি চাইনি আমার স্ত্রী বুঝতে পারুক যে তার সৌন্দর্যের পরিবর্তন আমি দেখেছি। যদি সে এটা বুঝত, তবে সে তার রোগের যন্ত্রণার চেয়ে বেশি কষ্ট পেত। আমি তাকে সবসময় ভালোবেসেছি, তার সৌন্দর্যের জন্য নয়, তার হৃদয় ও আত্মার জন্য। আমি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম যে যেকোনো অবস্থায় তার পাশে থাকব। যদি সেই প্রতিশ্রুতি রাখতে না পারি, তাহলে ভালোবাসার মানেটাই কি?”
তিনি আরও বললেন,
“সৌন্দর্য সময়ের সঙ্গে বিবর্ণ হয়, কিন্তু হৃদয় এবং আত্মার গভীরতা সবসময় একই থাকে। ভালোবাসা বাহ্যিক সৌন্দর্যে নয়, অন্তরের গভীরতায় খুঁজতে হয়।”
সুতরাং প্রিয় মানুষকে সত্যিকারের ভালোবাসুন। বাইরের সৌন্দর্য নয়, হৃদয় ও আত্মার মাধুর্যই ভালোবাসার আসল রূপ।
